পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খান জেলার একটি থানায় সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত আরও ৬ সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এ খবর জানিয়েছে জিও নিউজ।

পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ভোর ৩টার দিকে সন্ত্রাসীরা ভারী অস্ত্র নিয়ে তহসিল দারাবনে থানা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ১৬ পুলিশ সদস্য হতাহত হয়েছেন। আহত ৬ জনকে ডিএইচকিউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে দেশটিতে বিরাজ করছে চাপা এক উত্তেজনা। এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল যখন পাকিস্তানজুড়ে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই নির্বাচনে দেশের প্রধান বিরোধী নেতা ইমরান খান ও তার দল পিটিআইকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, রাত ৩টার দিকে তহসিল দারাবনে সন্ত্রাসীরা ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে থানায় হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা চারদিক থেকে গ্রেনেড ও ভারী অস্ত্র নিয়ে থানায় হামলা করেছে। পুলিশ পাল্টা জবাব দিলে সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। আহত পুলিশ সদস্যদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হামলার পরপর এলাকাটি ঘেরাও করে সন্ত্রাসীদের খুঁজে তল্লাশি অভিযানে নেমেছে পুলিশ। এ ছাড়া থানা পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোটেও ভালো না। ২০১৫ সালের পর সদ্য বিদায়ী ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এমনকি নির্বাচন পূর্ববর্তী সহিংসতায় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের এমন ভয়াবহ নিরাপত্তা পরিস্থিতি কথা উল্লেখ করে নির্বাচন পেছাতে সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রস্তাব পর্যন্ত পাস হয়েছে। যদিও এই প্রস্তাব মেনে নির্বাচন পেছানোর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। অবশ্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে সরকার।